১২-০৫-২০২০

সেহেরীর শেষ সময়, ঢাকা

০৩:৪৯ মিনিট

ইফতারের সময়, ঢাকা

০৬:৩৬ মিনিট

Wednesday, October 21, 2015

নীরব ঘাতক ॥ ওথেলো সিনড্রম

ডা. মোহিত কামাল
 
রাহি ও তুহিনের বিয়ে হয়েছে কয়েক বছর। এরই মধ্যে অমূলক সন্দেহ যেন চেপে ধরেছে রাহিকে। সন্দেহের বশবর্তী হয়ে প্রায়ই রেগে থাকে রাহি। কথাবার্তায় বিরক্তির ছাপ। দিন দিন তুহিনকে নিয়ে তার সন্দেহের মাত্রা বেড়েই চলেছে। অদৃশ্য আঁধার যেন হামাগুঁড়ি দিয়ে এগিয়ে আসছে তুহিনের জীবনে। বর্তমানে শুধু সন্দেহের কারণেই ভেঙে যাচ্ছে হাজারো সংসার। আর অযাচিত সন্দেহের এই রোগটির নাম ওথেলো সিনড্রম। রাহি প্যাথলজিক্যাল জেলাসিতে আক্রান্ত। এর আর এক নাম ওথেলো সিনড্রম বা মনের সন্দেহ। এমন রোগে আক্রান্ত হলে দাম্পত্য সম্পর্ক ভয়াবহ পরিণতির দিকে এগিয়ে যায়। বিষময় হয়ে ওঠে পারিবারিক জীবন। রাহির সন্দেহটি ঘনীভূত বিশ্বাসে পরিণত হলেও এর পেছনে যুক্তিসঙ্গত কোন কারণ নেই। রাহির কল্পিত সন্দেহ নিছক হলেও সেটিকে বাস্তবে পরিণত করতে উদ্যত থাকে সারাক্ষণ। তার কল্পনার বিষয়বস্তুটিকে বাস্তবে রূপ দিতে সন্দেহের কারণে অহরহ ভেঙে যাচ্ছে সাজানো সংসার।
একটি জরিপে দেখা গেছে, ওথেলো সিনড্রম রোগে পুরুষেরা মহিলাদের তুলনায় বেশি ভুগে থাকে। মহিলা ও পুরুষের আক্রান্ত হওয়ার আনুপাতিক হার (১:৩.৭৬)। গবেষণায় দেখা গেছে, প্যাথলজিক্যাল জেলাসি কয়েকটি প্রাথমিক রোগের সাথে সংযুক্ত থাকতে পারে। এ ধরনের রোগীদের ১৭-৪৪% এর প্যারানয়েড সিজোফ্রেনিয়া, ৩-১৬% এর ডিপরেসিভ ডিসঅর্ডার, ৩৮-৫৭% এর নিউরোসিস এবং পারসোনালিটি ডিজঅর্ডার, ৫-৭% এর এলকোহলিজম, ৬-২০% এর ক্ষেত্রে অর্গানিক ডিজঅর্ডার জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
প্যাথলজিক্যাল জেলাসির কারণে ভয়াবহ সহিংসতার ঘটনাও ঘটে যেতে পারে। ব্রিটেনে ব্রডমুর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের ওপর পরিচালিত এক গবেষণা রিপোর্টে ড. মোয়াট দেখিয়েছেন, এদের মধ্যে ১২% মহিলা এবং ১৫% পুরুষ প্যাথলজিক্যাল জেলাসিতে আক্রান্ত ছিল। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, জেলাসি রোগী কর্তৃক শারীরিক জখমের মাত্রাও উল্লেখযোগ্য। এমনও দেখা গেছে ক্রমাগত তীব্র সন্দেহের জ্বালা সইতে না পরে অনেক নিরপরাধ পার্টনার আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।
ওথেলো সিনড্রম রোগে কোন ব্যক্তি আক্রান্ত হলে কৌশলে মূল্যায়ন করতে হবে। কতটুকু অমূলক বিশ্বাস রোগী ধারণ করে, কী পরিমাণ ক্রোধ বা রাগ রোগী বহন করছে ইত্যাদি। রোগীর ভেতর প্রতিশোধপরায়ণ মনোবৃত্তি থাকলে বিশেষভাবে সতর্ক হতে হবে।
রোগী তার সঙ্গীকে বিপর্যস্ত করে তোলে কি না তা যাচাই করে দেখতে হবে। এক্ষেত্রে পার্টনারকে কৌশলে এবং ধৈর্যের সাথে পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে।
সাধারণত এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি মনে করে না, সে রোগে আক্রান্ত। তাই সে ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে চায় না। এক্ষেত্রে প্যাথলজিক্যাল বা ওথেলো সিনড্রম রোগের রোগীদের চিকিৎসা করা বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। কারণ রোগী মনেই করে না, যে তার কোন রোগ রয়েছে। ফলে চিকিৎসার যে কোন উদ্যোগই তার কাছে অনধিকার চর্চা ও অন্যায় আচরণ বলে মনে হয়।
এক্ষেত্রে যদি স্ত্রী অর্থাৎ মেয়েটি অসুস্থ হয়ে পড়ে, তাহলে মেয়ের পরিবারের পক্ষ থেকে মেয়েকে বুঝিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি স্বামীর প্রধান কাজ হবে স্ত্রীকে এ রোগ সম্পর্কে বোঝানো। বিফল হলে ভিন্ন কৌশল প্রয়োগ করে তাকে চিকিৎসকের কাছে নিতে হবে। যদি রোগটি প্রকৃতই অমূলক বিশ্বাসের ওপর গড়ে ওঠে তবে এন্টিসাইকোটিক ওষুধ ব্যবহার করতে হবে। যাদের আত্মবিশ্বাস কম কিংবা ব্যক্তিত্বের সমস্যা আছে, তাদের ক্ষেত্রে ডিলুশনাল ডিজঅর্ডার বা প্যাথলজিক্যাল জেলাসিটি ওভারভেল্যুড আইডিয়ার সাথে সম্পর্কিত কিনা তা যাচাই করে দেখতে হবে। ওথেলো সিনড্রোম রোগীরা নিজের সন্দেহের কথাগুলো অন্যের কাছে বলে পরামর্শ চায়। কিন্তু যাকে তিনি বলছেন, তার জন্য তিনি কতটুকু ইতিবাচক হবেন তা ভাবেন না। ফলে যিনি শুনছেন, তিনি তার কথা বিশ্বাস করে ভ্রান্ত পরামর্শ দিয়ে থাকেন। আর রোগীও সেই পরামর্শ গ্রহণ করে তার পার্টনারের সাথে নেতিবাচক আচরণ করে থাকে। এক্ষেত্রে বন্ধু-বান্ধব, পরিবারসহ সবাইকে গঠনমূলক পরামর্শ দিতে হবে। কারণ একটি ভুল পরামর্শই ভেঙে দিতে পারে রোগীর সাজানো সংসার।
এই রোগে আক্রান্ত পরিবারগুলো রোগীর সন্দেহের মাত্রাটা এমন পর্যায়ে চলে যায় যে, তা প্রমাণ করার জন্য রোগী বিভিন্ন মামলা-মোকদ্দমা পর্যন্ত করে থাকে, এতে পার্টনারের তার নানা প্রকার সমস্যা হয়। এক্ষেত্রে রোগীর পরিবারকে এগিয়ে আসতে হবে। কোন অভিভাবক যদি বুঝতে পারেন, এটা এক ধরনের রোগ তবে এ ধরনের সমস্যা কিছুটা হলেও লাঘব হয়। মূলত মামলাটা হয়েই থাকে ভুল বোঝাবুঝিকে কেন্দ্র করে। মা-বাবা বুঝতে পারেন না, তার সন্তান অসুস্থ। এক্ষেত্রে সামাজিক সচেতনতা বা ক্রিয়েশন অব এ্যাওয়ারনেস বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আমরা যদি ১০০ জন লোকের কাছে এই রোগের তথ্য জানাতে পারে, এর মধ্যে ২ জন লোকও যদি সামাজিকভাবে সচেতন হয়, তাহলে কিছুটা হলেও এ সমস্যার সমাধান হবে।
মামলা হলে আইনজীবী যদি বুঝতে পারেন, রোগী অসুস্থ বা স্বামী যদি দাবি করে যে তার স্ত্রী মানসিকভাবে অসুস্থ, তবে আইনজীবীর প্রথম কাজ হবে তার সত্যতা যাচাই করা। এক্ষেত্রে আদালতের উচিত হবে ডাক্তারের শরণাপন্ন হয়ে তার সত্যতা যাচাই করে রিপোর্ট পেশ করা। এক্ষেত্রে স্বামী যেটা করতে পারেন সেটা হল, কেন তার স্ত্রী মানসিক রোগী; এর কারণগুলো আদালতে উপস্থাপন করা।
এক্ষেত্রে কারও যদি সন্তান থাকে, তার ভবিষ্যত অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। মা-বাবা অসুস্থ হলে শিশুর বেড়ে ওঠার জন্য যে মানসিক পরিবেশ দরকার হয়, এক্ষেত্রে তার অভাব দেখা দেয়। এতে শিশুটি মানসিকভাবে আঘাত পায়। যখন সন্তান অনবরত দেখতে থাকে, তার বাবা-মা’র মধ্যে দ্বন্দ্ব, ঝগড়া, এমনকি শারীরিকভাবে আঘাতের ঘটনাও ঘটছে তখন বাড়ন্ত শিশুটির মানসিক উন্নতি বাধাগ্রস্ত হয়। পরিণতিতে সে ড্রাগ ও ক্রাইমে জড়িয়ে পড়তে পারে। অথবা নিজেই মানসিক রোগে আক্রান্ত হয়ে যেতে পারে । সন্তানের সুস্থ বিকাশের জন্য মননশীলতার জন্য, সামাজিক বন্ধন, মমতা, ভালবাসা জরুরী।
যদি উভয় পক্ষ থেকে এ সমস্যায় সমাধান না হয়, তাহলে দম্পতি বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। অর্থাৎ যদি তারা ভাবেন, ডিভোর্স হয়ে গেলে তারা সুখী হবেন। তবে এক্ষেত্রে সন্তানটিকে নিয়ে সমস্যা দেখা দেয়; সন্তান কার কাছে থাকবে? সাধারণত এ ধরনের পরিস্থিতিতে সন্তান থাকে অরক্ষিত অবস্থায়। এক্ষেত্রে সন্তানের কাছেই জানতে হবে, সে কার কাছে থাকতে চায়, কার কাছে সে স্বস্তি বোধ করবে। যদি দেখা যায় সে তার মার কাছে থাকতে চায় কিন্তু মা রোগী প্রমাণিত হয় তবে তার কাছে রাখা নিরাপদ নয়। স্বামী যদি প্রমাণ করতে পারেন, তার স্ত্রী অসুস্থ, সেক্ষেত্রে আদালতের ভূমিকা হবে তাকে সুস্থ করা কিংবা সন্তানের অভিভাবকত্ব বাবাকে প্রদান করা। এক্ষেতে বাবা সুস্থ থাকলে বাবার কাছে রাখাই হবে নিরাপদ।
লেখক : বিশেষজ্ঞ মনোরোগ চিকিৎসক-মনঃশিক্ষাবিদ
জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট

"নীরব ঘাতক : ওথেলো সিনড্রম"

নীরব ঘাতক : ওথেলো সিনড্রম

 কেবল সন্দেহের কারণে ভেঙে যাচ্ছে হাজারও সংসার। সন্দেহের দাবানলে জ্বলেপুড়ে ছারখার হতে পারে যে কারও দাম্পত্য জীবন। আর অযাচিত সন্দেহের এ
রোগটির নাম ওথেলো সিনড্রম। তবে মহিলাদের তুলনায় পুরুষরা এ রোগে
বেশি ভোগেন। একে প্যাথলজিক্যাল জেলাসিও বলা হয়ে থাকে। প্রখ্যাত মনোচিকিৎসক
ডা. মোহিত কামালের সঙ্গে কথা বলে লিখেছেন_ শামছুল হক রাসেল
মুনি্ন ও তুহিনের বিয়ে হয়েছে কয়েক বছর। এরই মধ্যে অমূলক সন্দেহ যেন চেপে ধরেছে মুনি্নকে। সন্দেহের বশবর্তী হয়ে প্রায় রেগে থাকে সে। কথাবার্তায় বিরক্তির ছাপ। দিন দিন তুহিনকে নিয়ে তার সন্দেহের মাত্রা বেড়েই চলেছে। অদৃশ্য অাঁধার যেন হামাগুড়ি দিয়ে এগিয়ে আসছে তুহিনের জীবনে। বর্তমানে শুধু সন্দেহের কারণেই ভেঙে যাচ্ছে হাজারও সংসার। আর অযাচিত সন্দেহের এই রোগটির নাম ওথেলো সিনড্রম। মুনি্ন প্যাথলজিক্যাল জেলাসিতে আক্রান্ত। এর আরেক নাম ওথেলো সিনড্রম বা মনের সন্দেহ। এমন রোগে আক্রান্ত হলে দাম্পত্য সম্পর্ক ভয়াবহ পরিণতির দিকে এগিয়ে যায়। বিষময় হয়ে ওঠে পারিবারিক জীবন। মুনি্নর সন্দেহটি ঘনীভূত বিশ্বাসে পরিণত হলেও এর পেছনে যুক্তিসঙ্গত কোনো কারণ নেই। মুনি্নর কল্পিত সন্দেহ নিছক হলেও সেটিকে বাস্তবে পরিণত করতে উদ্যত থাকে সারাক্ষণ। তার কল্পনার বিষয়বস্তু বাস্তবে রূপ দিতে সন্দেহের কারণে ভেঙে যাচ্ছে সাজানো সংসার।
এক জরিপ দেখা গেছে, ওথেলো সিনড্রম রোগে পুরুষরা মহিলাদের তুলনায় বেশি ভোগে। মহিলা ও পুরুষের আক্রান্ত হওয়ার আনুপাতিক হার (১:৩.৭৬)। গবেষণায় দেখা গেছে, প্যাথলজিক্যাল জেলাসি কয়েকটি প্রাথমিক রোগের সঙ্গে সংযুক্ত থাকতে পারে। এ ধরনের রোগীদের ১৭-৪৪ ভাগের সঙ্গে প্যারানয়েড সিজোফ্রেনিয়া, ৩-১৬ ভাগের সঙ্গে ডিপরেসিভ ডিজঅর্ডার, ৩৮-৫৭ ভাগের সঙ্গে নিউরোসিস এবং পারসোনালিটি ডিজঅর্ডার, ৫-৭ ভাগের কারণে এলকোহলিজম, ৬-২০ ভাগের ক্ষেত্রে অর্গানিক ডিজঅর্ডার জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। প্যাথলজিক্যাল জেলাসির কারণে ভয়াবহ সহিংসতা ঘটে যেতে পারে। ব্রিটেনে ব্রডমুর হাসপাতালে ভর্তিরত ঘাতক রোগীদের ওপর পরিচালিত এক গবেষণা রিপোর্টে ড. মোয়াট দেখিয়েছেন, এদের মধ্যে ১২ ভাগ মহিলা এবং ১৫ ভাগ পুরুষ প্যাথলজিক্যাল জেলাসিতে আক্রান্ত ছিল। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, জেলাসি রোগী কর্তৃক শারীরিক জখমের মাত্রাও উল্লেখযোগ্য হারে অনেক বেশি। এমনও দেখা গেছে, ক্রমাগত তীব্র সন্দেহের জ্বালা সইতে না পেরে অনেক নিরপরাধ পার্টনার আত্দহত্যার পথ বেছে নেয়।
ওথেলো সিনড্রম রোগে কোনো ব্যক্তি আক্রান্ত হলে কৌশলের সঙ্গে মূল্যায়ন করতে হবে। কতটুকু অমূলক বিশ্বাস রোগী ধারণ করে, কি পরিমাণ ক্রোধ বা রাগ রোগী বহন করছে। রোগীর ভেতর প্রতিশোধপরায়ণ মনোবৃত্তি থাকলে সতর্ক হতে হবে।
রোগী সঙ্গীকে বিপর্যস্ত করে তোলে কিনা তা যাচাই করে দেখতে হবে। এক্ষেত্রে পার্টনারকে কৌশলে এবং ধৈর্যের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে।
সাধারণত এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি মনে করে না সে রোগে আক্রান্ত, তাই সে ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে চায় না। এক্ষেত্রে যদি স্ত্রী অর্থাৎ মেয়েটি অসুস্থ হয়, তবে মেয়ের পরিবারের পক্ষ থেকে মেয়েকে বুঝিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি স্বামীর প্রধান কাজ হবে স্ত্রীকে এ রোগ সম্পর্কে বোঝানো। বিফল হলে কৌশলের আশ্রয় গ্রহণ করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। যদি রোগটি প্রকৃতই দৃঢ়ভাবে অমূলক বিশ্বাসের ওপর গড়ে ওঠে তবে এন্টিসাইকোটিক ওষুধ ব্যবহার করতে হবে। যাদের আত্দবিশ্বাস কম কিংবা ব্যক্তিত্বের সমস্যা আছে তাদের ক্ষেত্রে ডিলুশনাল ডিজঅর্ডার বা প্যাথলজিক্যাল জেলাসিটি ওভার ভেল্যুড আইডিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত কিনা তা যাচাই করে দেখতে হবে। ওথেলো সিনড্রোম রোগীরা নিজের সন্দেহের কথাগুলো অন্যের কাছে বলে পরামর্শ চায়। কিন্তু যাকে বলছেন তার জন্য তিনি কতটুকু ইতিবাচক হবেন তা কিন্তু তিনি ভাবছেন না। যিনি শুনছেন তিনি তার কথায় বিশ্বাস করে ভ্রান্ত পরামর্শ দিয়ে থাকেন। ফলে রোগীও সেই পরামর্শ গ্রহণ করে নেতিবাচক আচরণ করে তার পার্টনারের সঙ্গে। এক্ষেত্রে বন্ধু, পরিবার সবাইকে গঠনমূলক পরামর্শ দিতে হবে। কারণ একটি পরামর্শই ভেঙে দিতে পারে সাজানো সংসার।
এ রোগে আক্রান্ত পরিবারগুলোর রোগীর সন্দেহের মাত্রাটা এমন পর্যায়ে চলে যায় যে, তা প্রমাণ করার জন্য রোগী বিভিন্ন মামলা-মোকদ্দমা করে থাকে। এক্ষেত্রে পরিবারকে এগিয়ে আসতে হবে। অভিভাবক কেউ যদি বুঝতে পারে এটা এক ধরনের রোগ, তবে এ ধরনের সমস্যার কিছুটা হলেও লাঘব হয়। মূলত মামলাটা হয়েই থাকে ভুল বোঝাবুঝিকে কেন্দ্র করে। মা-বাবা বুঝতে পারেন না তার সন্তান অসুস্থ। এক্ষেত্রে সামাজিক সচেতনতা বা ক্রিয়েশন অব অ্যাওয়ারনেস বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
যদি উভয়পক্ষ থেকে বনিবনা না হয় তাহলে দম্পতি ডিপোর্সের সিদ্ধান্তে আসতে পারেন। যদি তারা ভাবেন ডিভোর্স হয়ে গেলে তারা সুখী হবেন। তবে এক্ষেত্রে সন্তানটিকে নিয়ে সমস্যা দেখা দেয়। সন্তান কার কাছে থাকবে? এ অবস্থায় সন্তান অরক্ষিত অবস্থায় থাকে। এক্ষেত্রে সন্তানকে প্রশ্ন করা যে, সে কার কাছে থাকতে চায়। যদি দেখা যায় মার কাছে থাকতে চায়, কিন্তু মা রোগী প্রমাণিত হয়, তবে তার কছে রাখা নিরাপদ নয়। স্বামী যদি প্রমাণ করতে পারে যে, তার স্ত্রী অসুস্থ। সেক্ষেত্রে কোর্টের ভূমিকা হবে তাকে সুস্থ করা কিংবা সন্তানের অভিভাবকত্ব বাবাকে প্রদান করা। এক্ষেত্রে বাবা সুস্থ থাকলে বাবার কাছে রাখাই নিরাপদ।


ওথেলো সিনড্রম

নীরব ঘাতক ওথেলো সিনড্রম

ডা. মোহিত কামাল
বিশেষজ্ঞ মনোরোগ চিকিত্সক, মনোশিক্ষাবিদ
জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট
শেরেবাংলা নগর, ঢাকা


ওথেলো সিনড্রম কী?
রাহি ও তুহিনের বিয়ে হয়েছে কয়েক বছর। এরই মধ্যে অমূলক সন্দেহ যেন চেপে ধরেছে রাহিকে। সন্দেহের বশবর্তী হয়ে প্রায়ই রেগে থাকে রাহি। কথাবার্তায় বিরক্তির ছাপ। দিন দিন তুহিনকে নিয়ে তার সন্দেহের মাত্রা বেড়েই চলেছে। অদৃশ্য আঁধার যেন হামাগুড়ি দিয়ে এগিয়ে আসছে তুহিনের জীবনে। বর্তমানে শুধু সন্দেহের কারণেই ভেঙে যাচ্ছে হাজারো সংসার। আর অযাচিত সন্দেহের এই রোগটির নাম ওথেলো সিনড্রম।
রাহি প্যাথলজিক্যাল জেলাসিতে আক্রান্ত। এর আরেক নাম ওথেলো সিনড্রম বা মনের সন্দেহ। এমন রোগে আক্রান্ত হলে দাম্পত্য সম্পর্ক ভয়াবহ পরিণতির দিকে এগিয়ে যায়। বিষময় হয়ে ওঠে পারিবারিক জীবন। রাহির সন্দেহটি ঘনীভূত বিশ্বাসে পরিণত হলেও এর পেছনে যুক্তিসঙ্গত কোনো কারণ নেই। রাহির কল্পিত সন্দেহ নিছক হলেও সেটিকে বাস্তবে পরিণত করতে উদ্যত থাকে সারাক্ষণ। তার কল্পনার বিষয়বস্তুটিকে বাস্তবে রূপ দিতে সন্দেহের কারণে অহরহ ভেঙে যাচ্ছে সাজানো সংসার।

পুরুষরা ভোগে বেশি
একটি জরিপে দেখা গেছে, ওথেলো সিনড্রম রোগে পুরুষরা মহিলাদের তুলনায় বেশি ভুগে থাকে। মহিলা ও পুরুষের আক্রান্ত হওয়ার আনুপাতিক হার ১:৩.৭৬। গবেষণায় দেখা গেছে, প্যাথলজিক্যাল জেলাসি কয়েকটি প্রাথমিক রোগের সঙ্গে সংযুক্ত থাকতে পারে। এ ধরনের রোগীদের ১৭ থেকে ৪৪ ভাগ প্যরানয়েড সিজোফ্রেনিয়া, ৩ থেকে ১৬ ভাগ ডিপ্রেসিভ ডিসঅর্ডার, ৩৮ থেকে ৫৭ ভাগ নিউরোসিস ও পারসোনালিটি ডিজঅর্ডার, ৫ থেকে ৭ ভাগ অ্যালকোহলিজম এবং ৬ থেকে ২০ ভাগের ক্ষেত্রে অর্গানিক ডিজঅর্ডার জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
প্যাথলজিক্যাল জেলাসির কারণে ভয়াবহ সহিংসতার ঘটনাও ঘটে যেতে পারে। ব্রিটেনে ব্রডমুর হাসপাতালে চিকিত্সাধীন রোগীদের ওপর পরিচলিত এক গবেষণা রিপোর্টে ড. মোয়াট দেখিয়েছেন, এদের মধ্যে ১২ ভাগ মহিলা এবং ১৫ ভাগ পুরুষ প্যাথলজিক্যাল জেলাসিতে আক্রান্ত ছিল। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, জেলাসি রোগী কর্তৃক শারীরিক জখমের মাত্রাও উল্লেখযোগ্য। এমনও দেখা গেছে, ক্রমাগত তীব্র সন্দেহের জ্বালা সইতে না পরে অনেক নিরপরাধ পার্টনার আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।
ওথেলো সিনড্রম রোগে আক্রান্ত হলে যা করবেন
ক্স ওথেলো সিনড্রম রোগে কোনো ব্যক্তি আক্রান্ত হলে কৌশলে মূল্যায়ন করতে হবে—কতটুকু অমূলক বিশ্বাস রোগী ধারণ করেন, কী পরিমাণ ক্রোধ বা রাগ রোগী বহন করছেন ইত্যাদি। রোগীর ভেতর প্রতিশোধপরায়ণ মনোবৃত্তি থাকলে বিশেষভাবে সতর্ক হতে হবে। রোগী তার সঙ্গীকে বিপর্যস্ত করে তোলেন কিনা তা যাচাই করে দেখতে হবে। এক্ষেত্রে পার্টনারকে কৌশলে এবং ধৈর্যের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে।
ক্স সাধারণত এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি মনে করেন না, তিনি রোগে আক্রান্ত। তাই তিনি ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে চান না। এক্ষেত্রে প্যাথলজিক্যাল বা ওথেলো সিনড্রম রোগের রোগীদের চিকিত্সা করা বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। কারণ রোগী মনেই করেন না যে, তার কোনো রোগ রয়েছে। ফলে চিকিত্সার যে কোনো উদ্যোগই তার কাছে অনধিকার চর্চা ও অন্যায় আচরণ বলে মনে হয়। এক্ষেত্রে যদি স্ত্রী অর্থাত্ মেয়েটি অসুস্থ হয়ে পড়েন, তাহলে মেয়ের পরিবারের পক্ষ থেকে মেয়েকে বুঝিয়ে চিকিত্সার ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি স্বামীর প্রধান কাজ হবে স্ত্রীকে এ রোগ সম্পর্কে বোঝানো। বিফল হলে ভিন্ন কৌশল প্রয়োগ করে তাকে চিকিত্সকের কাছে নিতে হবে।
ক্স যদি রোগটি প্রকৃতই অমূলক বিশ্বাসের ওপর গড়ে ওঠে, তবে অ্যান্টিসাইকোটিক ওষুধ ব্যবহার করতে হবে। যাদের আত্মবিশ্বাস কম কিংবা ব্যক্তিত্বের সমস্যা আছে, তাদের ক্ষেত্রে ডিলুশনাল ডিজঅর্ডার বা প্যাথলজিক্যাল জেলাসিটি ওভার ভেল্যুড আইডিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত কিনা তা যাচাই করে দেখতে হবে।
ক্স ওথেলো সিনড্রোম রোগীরা নিজের সন্দেহের কথাগুলো অন্যের কাছে বলে পরামর্শ চান। কিন্তু যাকে তিনি বলছেন, তার জন্য তিনি কতটুকু ইতিবাচক হবেন, তা ভাবেন না। ফলে যিনি শুনছেন, তিনি তার কথা বিশ্বাস করে ভ্রান্ত পরামর্শ দিয়ে থাকেন। আর রোগীও সেই পরামর্শ গ্রহণ করে তার পার্টনারের সঙ্গে নেতিবাচক আচরণ করে থাকেন। এক্ষেত্রে বন্ধুবান্ধব, পরিবারসহ সবাইকে গঠনমূলক পরামর্শ দিতে হবে। কারণ একটি ভুল পরামর্শই ভেঙে দিতে পারে রোগীর সাজানো সংসার।
ক্স এই রোগে আক্রান্ত পরিবারগুলোর রোগীর সন্দেহের মাত্রাটা এমন পর্যায়ে চলে যায় যে, তা প্রমাণ করার জন্য রোগী বিভিন্ন মামলা-মোকদ্দমা পর্যন্ত করে থাকেন। এতে পার্টনারের তার নানা ধরনের সমস্যা হয়। এক্ষেত্রে রোগীর পরিবারকে এগিয়ে আসতে হবে। কোনো অভিভাবক যদি বুঝতে পারেন, এটা এক ধরনের রোগ, তবে এ ধরনের সমস্যা কিছুটা হলেও লাঘব হয়। মূলত মামলাটা হয়েই থাকে ভুল বোঝাবুঝিকে কেন্দ্র করে। মা-বাবা বুঝতে পারেন না, তার সন্তান অসুস্থ। এক্ষেত্রে সামাজিক সচেতনতা বা ক্রিয়েশন অব অ্যাওয়ারনেস বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আমরা যদি একশ’ জন লোকের কাছে এই রোগের তথ্য জানাতে পারি, এর মধ্যে দু’জন লোকও যদি সামজিকভাবে সচেতন হন, তাহলে কিছুটা হলেও এ সমস্যার সমাধান হবে।
ক্স মামলা হলে আইনজীবী যদি বুঝতে পারেন, রোগী অসুস্থ বা স্বামী যদি দাবি করেন, তার স্ত্রী মানসিকভাবে অসুস্থ, তবে আইনজীবীর প্রথম কাজ হবে তার সত্যতা যাচাই করা। এক্ষেত্রে আদালতের উচিত হবে ডাক্তারের শরণাপন্ন হয়ে তার সত্যতা যাচাই করে রিপোর্ট পেশ করা। এক্ষেত্রে স্বামী যেটা করতে পারেন সেটা হলো—কেন তার স্ত্রী মানসিক রোগী, এর কারণগুলো আদালতে উপস্থাপন করা।
ক্স কারও যদি সন্তান থাকে, তার ভবিষ্যত্ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। মা-বাবা অসুস্থ হলে শিশুর বেড়ে ওঠার জন্য যে মানসিক পরিবেশ দরকার হয়, এক্ষেত্রে তার অভাব দেখা দেয়। এতে শিশুটি মানসিকভাবে আঘাত পায়। যখন সন্তান অনবরত দেখতে থাকে, তার বাবা-মায়ের মধ্যে দ্বন্দ্ব, ঝগড়া, এমনকি শারীরিকভাবে আঘাতের ঘটনাও ঘটছে, তখন বাড়ন্ত শিশুটির মানসিক উন্নতি বাধাগ্রস্ত হয়। পরিণতিতে সে ড্রাগ ও ক্রাইমে জড়িয়ে পড়তে পারে। অথবা নিজেই মানসিক রোগে আক্রান্ত হয়ে যেতে পারে। সন্তানের সুস্থ বিকাশের জন্য মননশীলতার জন্য, সামাজিক বন্ধন, মমতা, ভালোবাসা জরুরি।
ক্স যদি উভয় পক্ষ থেকে এ সমস্যায় সমাধান না হয়, তাহলে ওই দম্পতি বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। অর্থাত্ যদি তারা ভাবেন, ডিভোর্স হয়ে গেলে তারা সুখী হবেন, তবে এক্ষেত্রে সন্তানটিকে নিয়ে সমস্যা দেখা দেয়—সন্তান কার কাছে থাকবে? সাধারণত এ ধরনের পরিস্থিতিতে সন্তান থাকে অরক্ষিত অবস্থায়। এক্ষেত্রে সন্তানের কাছেই জানতে হবে, সে কার কাছে থাকতে চায়, কার কাছে সে স্বস্তি বোধ করবে। যদি দেখা যায়, সে তার মার কাছে থাকতে চায়, কিন্তু মা রোগী প্রমাণিত হয়, তবে তার কছে রাখা নিরাপদ নয়। স্বামী যদি প্রমাণ করতে পারেন, তার স্ত্রী অসুস্থ, সেক্ষেত্রে আদালতের ভূমিকা হবে তাকে সুস্থ করা, কিংবা সন্তানের অভিভাবকত্ব বাবাকে প্রদান করা। এক্ষেত্রে বাবা সুস্থ থাকলে বাবার কাছে রাখাই হবে নিরাপদ।

নীরব ঘাতক : ওথেলো সিনড্রম

রাহি ও তুহিনের বিয়ে হয়েছে বেশ কয়েক বছর। এরই মধ্যে অমূলক এক সন্দেহ যেন চেপে ধরেছে রাহিকে। সন্দেহের বর্শবর্তী হয়ে প্রায়ই রেগে থাকেন রাহি। কথাবার্তায় বিরক্তির ছাপ স্পষ্ট। দিন দিন তুহিনকে নিয়ে তার সন্দেহের মাত্রা বেড়েই চলেছে।

অদৃশ্য আঁধার যেন হামাগুড়ি দিয়ে এগিয়ে আসছে তুহিনের জীবনে। বর্তমানে শুধু সন্দেহের কারণেই ভেঙে যাচ্ছে হাজারো সংসার। আর অযাচিত সন্দেহপ্রবণ এই রোগটির নাম ওথেলো সিনড্রম।

রাহি প্যাথলজিক্যাল জেলাসিতে আক্রান্ত। এর আর এক নাম ‘ওথেলো সিনড্রম’ বা মনের সন্দেহ। এমন রোগে আক্রান্ত হলে দাম্পত্য সম্পর্ক ভয়াবহ পরিণতির দিকে এগিয়ে যায়। বিষময় হয়ে ওঠে পারিবারিক জীবন।

রাহির সন্দেহটি ঘণীভূত বিশ্বাসে পরিণত হলেও এর পেছনে যুক্তিসঙ্গত কোনো কারণ নেই। রাহির কল্পিত সন্দেহ নিছক হলেও সেটিকে বাস্তবে পরিণত করতে উদ্যত থাকেন সারাক্ষণ। তার কল্পনার বিষয়বস্তুটিকে বাস্তবে রূপ দিতে সন্দেহের কারণে অহরহ ভেঙে যাচ্ছে সাজানো সংসার।

একটি জরিপে দেখা গেছে, ওথেলো সিনড্রম রোগে পুরুষেরা মহিলাদের তুলনায় বেশি ভুগে থাকেন। মহিলা ও পুরুষের আক্রান্ত হওয়ার আনুপাতিক হার ১ : ৩.৭৬)। গবেষণায় দেখা গেছে, প্যাথলজিক্যাল জেলাসি কয়েকটি প্রাথমিক রোগের সঙ্গে সংযুক্ত থাকতে পারে।

এ ধরনের রোগীদের ১৭-৪৪ শতাংশের সঙ্গে প্যারানয়েড সিজোফ্রেনিয়া, ৩-১৬ শতাংশের সঙ্গে ডিপরেসিভ ডিজঅর্ডার, ৩৮-৫৭ শতাংশের সঙ্গে নিউরোসিস এবং পারসোনালিটি ডিজঅর্ডার, ৫-৭ শতাংশের কারণে অ্যালকোহলিজম, ৬-২০ শতাংশের ক্ষেত্রে অর্গানিক ডিজঅর্ডার জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

প্যাথলজিক্যাল জেলাসির কারণে ভয়াবহ সহিংসতার ঘটনাও ঘটে যেতে পারে। ব্রিটেনে ব্রডমুর হাসপাতালে ভর্তিরত ঘাতক রোগীদের ওপর পরিচলিত এক গবেষণা রিপোর্টে ড. মোয়াট দেখিয়েছেন, এদের মধ্যে ১২ শতাংশ নারী এবং ১৫ শতাংশ পুরুষ প্যাথলজিক্যাল জেলাসিতে আক্রান্ত ছিলেন।

গবেষণায় আরো দেখা গেছে, জেলাসি রোগী কর্তৃক শারীরিক জখমের মাত্রাও উল্লেখযোগ্য হারে অনেক বেশি। এমনও দেখা গেছে, ক্রমাগত তীব্র সন্দেহের জ্বালা সইতে না পরে অনেক নিরপরাধ সঙ্গী আত্মহত্যার পথও বেছে নেন।

ওথেলো সিনড্রম রোগে কোনো ব্যক্তি আক্রান্ত হলে কৌশলের সঙ্গে মূল্যায়ন করতে হবে। কতটুকু অমূলক বিশ্বাস রোগী ধারণ করেন, কি পরিমাণ ক্রোধ বা রাগ রোগী বহন করছেন। রোগীর ভেতর প্রতিশোধপরায়ণ মনোবৃত্তি থাকলেও সতর্ক হতে হবে।

রোগী সঙ্গীকে বিপর্যস্থ করে তোলেন কি না তা যাচাই করে দেখতে হবে। এক্ষেত্রে সঙ্গীকে কৌশলে এবং ধৈর্যের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে।

সাধারণত এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি মনে করেন না, তিনি রোগে আক্রান্ত। তাই তিনি ডাক্তারের শ্মরণাপন্ন হতে চান না। এক্ষেত্রে প্যাথলজিক্যাল বা ওথেলো সিনড্রম রোগের রোগীদের চিকিৎসা করা বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। কারণ, রোগী মনেই করেন না যে, তিনি কোনো রোগ ধারণ করছেন। ফলে চিকিৎসার যে কোনো উদ্যোগই তার কাছে অনাধিকার চর্চা ও অন্যায় আচরণ বলে মনে হয়।

এক্ষেত্রে স্ত্রী অর্থাৎ মেয়েটি যদি অসুস্থ হন তবে মেয়ের পরিবারের পক্ষ থেকে মেয়েকে বুঝিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি স্বামীর প্রধান কাজ হবে, স্ত্রীকে এ রোগ সম্পর্কে বোঝানো। বিফল হলে কৌশলের আশ্রয় গ্রহণ করে চিকিৎসকের শ্মরণাপন্ন হতে হবে।

যদি রোগটি প্রকৃতই দৃঢ়ভাবে অমূলক বিশ্বাসের ওপর গড়ে ওঠে, তবে অ্যান্টিসাইকোটিক ওষুধ ব্যবহার করতে হবে। যাদের আত্মবিশ্বাস কম কিংবা ব্যক্তিত্বের সমস্যা আছে তাদের ক্ষেত্রে ডিলুশনাল ডিজঅর্ডার বা প্যাথলজিক্যাল জেলাসিটি ওভার ভেল্যুড আইডিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত কিনা তা যাচাই করে দেখতে হবে।

ওথেলো সিনড্রোম আক্রান্ত রোগীরা নিজের সন্দেহের কথাগুলো অন্যের কাছে বলে পরামর্শ চান। কিন্তু যাকে তিনি বলছেন, তার জন্য তিনি কতটুকু ইতিবাচক হবেন তা কিন্তু তিনি ভাবছেন না। ফলে যিনি শুনছেন তিনি তার কথায় বিশ্বাস করে ভ্রান্ত পরামর্শ দিয়ে থাকেন। ফলে রোগীও সেই পরামর্শ গ্রহণ করে নেতিবাচক আচরণ করেন তার সঙ্গীর সঙ্গে। এক্ষেত্রে বন্ধু-বান্ধব-পরিবার-সবাইকে গঠনমূলক পরামর্শ দিতে হবে। কারণ, একটি পরামর্শই ভেঙে দিতে পারে সাজানো সংসার।

এ রোগে আক্রান্ত পরিবারগুলোর রোগীর সন্দেহের মাত্রাটা এমন পর্যায়ে চলে যায় যে তা প্রমাণ করার জন্য রোগী বিভিন্ন মামলা মোকদ্দমা করে থাকে। এতে সঙ্গীর নানা ধরনের সমস্যা হয়। এক্ষেত্রে পরিবারকে এগিয়ে আসতে হবে। অভিভাবকদের কেউ যদি বুঝতে পারেন, এটা এক ধরনের রোগ তবে এ ধরনের সমস্যার কিছুটা হলেও লাঘব হয়।

মূলত ঝামেলাটা হয়েই থাকে ভুল বোঝাবুঝিকে কেন্দ্র করে। মা-বাবাও বুঝতে পারেন না, তার সন্তান অসুস্থ। এক্ষেত্রে সামজিক সচেতনতা বা ক্রিয়েশন অব অ্যাওয়ারনেস বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আমরা যদি ১০০ লোকের কাছেও এ রোগের তথ্য জানাতে পারি, এর মধ্যে ২ জনও যদি সামজিকভাবে সচেতন হয়, তাহলে কিন্তু কিছুটা হলেও এ সমস্যার সমাধান হবে।

এদিকে এ বিষয়ে মামলা হলে আইনজীবী যদি বুঝতে পারেন যে, রোগী অসুস্থ বা স্বামী যদি দাবি করেন যে, তার স্ত্রী মানসিকভাবে অসুস্থ তবে আইনজীবীর প্রথম কাজ হবে, তার সত্যতা যাচাই করা। এক্ষেত্রে তার উচিত, ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে তার সত্যতা যাচাই করে আদালতে রিপোর্ট পেশ করা। এক্ষেত্রে স্বামী যেটা করতে পারেন, সেটা হল কেন তার স্ত্রী মানসিক রোগী এর কারণগুলোও আদালতে উপস্থাপন করতে হবে।

এক্ষেত্রে কারো যদি সন্তান থাকে, তার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। মা-বাবা অসুস্থ হলে শিশুর বেড়ে ওঠার জন্য যে মানসিক পরিবেশ দরকার হয়, তার অভাব পরিলক্ষিত হয়। এতে শিশুটির মন মরে যায়। যখন সন্তান অনবরত দেখছে, তার বাবা-মায়ের মধ্যে দ্বন্দ্ব, ঝগড়া, কিংবা ঘাত-প্রতিঘাত চলছে তখন বাড়ন্ত শিশুটি মানসিকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়। এর পরিণতিতে সে ড্রাগ এবং ক্রাইম জগতে প্রবেশ করতে পারে। অথবা নিজেই মানসিক রোগে আক্রান্ত হয়ে যেতে পারে। সন্তানের সুস্থ বিকাশের জন্য ও মননশীলতার জন্য সামাজিক বন্ধন, মমতা ও ভালোবাসা জরুরি।

যদি উভয় পক্ষ থেকে বনিবনা না হয় তাহলে দম্পতিরা ডিভোর্সের সিদ্ধান্তে আসতে পারেন। যদি তারা ভাবেন, ডিভোর্স হয়ে গেলে তারা সুখী হবেন, তবে এক্ষেত্রে সন্তানটিকে নিয়ে সমস্যা দেখা দেয়। সন্তান কার কাছে থাকবে? এ অবস্থায় সন্তান অরক্ষিত অবস্থায় থাকে। এক্ষেত্রে সন্তানকে প্রশ্ন করতে হবে, সে কার কাছে থাকতে চায়। যদি দেখা যায়, মায়ের কাছে থাকতে চায়। কিন্তু মা রোগী প্রমাণিত হয়, তবে তার কছে রাখা নিরাপদ না। স্বামী যদি প্রমাণ করতে পারেন যে, তার স্ত্রী অসুস্থ সেক্ষেত্রে আদালতের ভূমিকা হবে, তাকে সুস্থ করা কিংবা শিশুর অবিভাবকত্ব বাবাকে প্রদান করা। এক্ষেত্রে বাবা সুস্থ থাকলে বাবার কাছে রাখাই নিরাপদ।

“ ওথেলো সিনড্রম”

ওথেলো সিনড্রম কী? 

স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার অকারন সন্দেহই “ ওথেলো সিনড্রম” নামে পরিচিত। এই মানসিক সমস্যায় আক্রন্ত ব্যাক্তি ভ্রান্ত ধারনার বর্শর্বতী হয়ে সন্দেহ করে যে তার জীবনসঙ্গীর অন্য নারী বা পুরুষের সাথে শারিরিক সম্পর্ক রয়েছে।কিন্তু, এই ধারনার পক্ষে তাদের কাছে কোন যুক্তি বা প্রমাণ থাকে না।অনেকে এটাকে মতিভ্রম বলেও মনে করেন। কিংহ্যাম এবং গরডনের মতে, দাম্পত্যের বিশ্বাসভঙ্গজনিত সন্দেহের চূডান্ত রুপই হলো ওথেলো সিনড্রম। এই সমস্যায় রোগীর অজ্ঞাতেই তার মানসিক পরিবর্তন হতে থাকে এবং সে তার স্বামী/স্ত্রীর আচরনকে ভুল ভাবে ব্যাখা করতে শুরু করে। চূড়ান্ত পর্যায়ে এসে সে স্বামী/স্ত্রীর দ্বারা প্রতারিত হচ্ছে বলে মনে করে। 

“ ওথেলো সিনড্রম”- এর লক্ষ্মণসমূহ হল,
  • হঠাৎ অবিশ্বাস করতে শুরু করা।
  • অন্য নারী/পুরুষের দিকে তাকানোর বা মনোযোগ দেওয়ার অভিযোগ।
  • অন্য নারী/পুরুষের সাথে চোখাচোখিকে ?নষ্টামীর?লক্ষ্মণ বলে ধরে নেওয়া।
  • যথাযথ যত্ন না নেওয়ার অভিযোগ।
  • নানা বিষয়ে জেরা করা।
  • ব্যাক্তিগত জিনিসপত্র ঘাটাঘাটি করা।
  • প্রতিদিনের একই বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করা।
  • অফিসের বিপরীতলিঙ্গের কলিগদের সম্পর্কে অযাচিত প্রশ্ন করা।
  • ঘরে ফিরতে দেরী হলে প্রশ্নবানে জর্জরিত করা।
  • নিয়মিত পোষাক-পরিচ্ছেদ চেক করা।
  • সন্দেহ থেকে মুক্তি পেতে চাইলে অন্য কারো সাথে সম্পর্ক আছে বলে ধরে নেওয়া।
  • নিয়মিত অনুসরন করা।
  • আত্মবিশ্বাসের অভাব।
  • নিজেকে বা জীবনসঙ্গীকে শারিরিক ও মানসিক ভাবে অত্যাচার করা।     

“স্বাভাবিক” ঈর্ষাপরায়নতার সাথে “রুগ্ন” ঈর্ষাপরায়নতার পার্থক্য

  • এই সমস্যায় আক্রান্ত ব্যাক্তি সবসময় একই চিন্তায় ব্যস্ত থাকে ফলে নিজের স্বাভাবিক কাজকর্মে মননিবেশ করেতে পারে না।
  • জীবনসঙ্গীর স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করে, প্রায় সকল বিষয় যেমন- হাত খরচ, পোষাক পরিধান, বন্ধুবান্ধবদের সাথে সম্পর্ক ইত্যাদিতে তাকে নিয়ন্ত্রন করতে চায়।
  • কোন ভাবেই তারা তাদের ভ্রান্ত ধারনা থেকে বেরিয়ে আসতে পারে না। তারা তাদের জীবনসঙ্গীর সব কাজই অবিশ্বাসের লক্ষন দেখতে পায়।
  • তারা স্বামী/স্ত্রীকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে তার উপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চায়।
  • তাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাসের অভাব দেখা দিতে থাকে।
  • সবসময় দুঃশ্ছিন্তায় ভোগে।
  • অকারনে রেগে যায় ও নিজের উপর থেকে নিয়ন্ত্রন হারাতে থাকে।
  • দিনে দিনে আত্মকেন্দ্রিক হয়ে পড়ে। 

ওথেলো সিনড্রমঃ সত্যি ঘটনা 

আমার বাবা প্রায় ৮ বছরের ও বেশী সময় ধরে ওথেল সিনড্রম বা ভ্রন্ত সন্দেহ রোগে আক্রান্ত। প্রথম প্রথম আমরা বুঝতেই পারিনি যে কী হচ্ছে। এটা ছিল অনেকটা সিনেমার মত। তিনি আমার মাকে সন্দেহ করতে শুরু করলেন, টাকা-পয়সা নষ্ট করতে লাগলেন, বাথটাব, বিছানার চাদর, ঘরের দেয়ালে বীর্য দেখতে লাগলেন এবং ক্যালেন্ডারে দিনগুল দাগ দিয়ে রাখতে লাগলেন।
বিভিন্ন জনকে টাকা দিতে লাগলেন আমার মায়ের সাথে বিভিন্ন পুরুষের, বিশেষ করে বাবা যাদেরকে সন্দেহ করতেন, ছবি সংগ্রহের জন্য। তিনি তার ভ্রন্ত ধারনাকে সত্য প্রমানের জন্য সাধ্যমত সবই করলেন। বাগানে পায়ের চিহ্ন, ভাঙা ঘাস ইত্যাদি দেখে তার মনে হত মায়ের প্রেমিক প্রবররা মায়ের সাথে প্রেম করতে এসেছিল। ভয়ংকর এবং বিভৎস।
তাকে জোর করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়াছিল এবং সেখেনে তাকে সাপ্তাহে একটা করে ইনজেকশন দেওয়া হল। কিন্তু ঔষধটি তাকে অনেকটা যান্ত্রিক করে ফেলল। আমনকি তিনি তার স্বভাবিক কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেললেন। এটা খুবই হতাশার এবং কষ্টের ছিল। এই সমস্যায় আক্রন্ত ব্যাক্তি নিজের ভ্রান্তিকে বুঝতে পারেনা ফলে এর থেকে বেরিয়ে আসার ও চেষ্টা করে না। এর কোনও যৌক্তিকতা আছে কিনা তা ও ভেবে দেখেনা। এই সমস্যা নিই তাদের সাথে আলোচনা করাও বৃথা।
এটা শুধুই তাদের ভ্রন্ত ধরনাকেই বাড়তে সাহায্য করে এবং তারা ধীরে ধীরে বৃত্তবন্দী হয়ে পড়ে। আমার অভিজ্ঞতায় মনে হয় এটা অনেকটা অর্টিজম বা ডেমেনশিয়ার মত যা তাকে মানসিক রগী করে তোলে। হিংসা মানুষের স্বভাবিক ধর্ম যা তাকে তার নিজের অধিকার রক্ষায় উৎসাহী করে। কিন্তু এই ধর্মকে সে যখন অতি মাত্রায় চর্চা করতে শুরু করে, সে অন্যের সামাজিক অধিকার হরন করতে শুরু করে এবং ধীরে ধীরে সন্দেহ প্রবন হয়ে ওঠে।
বৃত্তে বন্দী থেকে থেকে তারা তাদেরকে আরও মানসিক ভাবে অসুস্থ করে তোলে। রোগের লক্ষণগুলোকে লুকাতে গিয়ে তারা বাস্তবতাকে অস্বীকার করে এমন পরিস্থির সৃষ্টি করতে চায় যা দিয়ে নিজেকে সত্য বলে প্রমান করতে পারে। এই রোগে আক্রান্ত ব্যাক্তকে এমন কোথাও নিয়ে যাওয়া দরকার যেখানে সে পরিপূর্ন বিশ্রাম নিতে পারবে, আনন্দে সময় কাটাতে পারবে, বই পড়তে পারবে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন হল তাকে তার বৃত্তে থেকে বের করার চেষ্টা না করা।
ডাক্তার বা ঔষধের চেয়ে পরিবারের সাহায্য তার সবচেয়ে বেশী দরকার। তার মানে এই নয় যে ঔষধের প্রয়োজণীয়তা নেই। শুরুতে আমার বাবা কে ও ঔষধ দেওয়া হয়েছিল যেগুলো পরে দুই বার পরিবরর্তন করা হয়। তিনি তার প্রত্যহিক খাবার পরিবরর্তনের পাশাপাশি ক্রিলের তেল ও ভিটামিন বি১২ খেয়েছিলেন। মদ ও ভাজা পোড়া খাবার না খাওয়া এবং নিয়মিত ব্যায়াম করা অত্যাত্ন জরুরী। দুশ্চিন্তা সমস্যাকে আরো বাড়িয়ে তোলে। আমার বাবা খুবই সৌভাগ্যবান যে তিনি সর্বোচ্চ পারিবারিক সমর্থন পেয়েছেন, আমার মা খুবই শক্ত মহিলা এবং তিনি ভাল করেই জানেন কি ঘটতে চলেছে। যে সমস্ত মহিলারা এই ধরনের ভয়ংকর এবং বিভৎস পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন তাদের জন্য রইল আমার হৃদেয়র সমস্ত ভালবাসা। 
রোগ পর্যালোচনা
ওথেলো সিনড্রম-এর ক্ষেত্রে রোগ পর্যালোচনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি রোগ প্রতিকারের প্রথম পদক্ষেপ। এটি একটি ব্যাপক প্রক্রিয়া যাতে সব ধরনের খুটিনাটির প্রতি লক্ষ্য রাখতে হয়। প্রথমেই, রোগের ইতিহাস সম্পর্কে বিশদ ভাবে জানতে হবে। স্বামী-স্ত্রীকে একসাথে ও আলাদা আলাদা ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে। বিষয়টিকে বিচক্ষণতার সাথে পরিচালনা করতে হবে কারন আক্রান্ত ব্যাক্তি কখনই নিজের ভূল স্বীকার করতে প্রস্তুত থাকে না। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার সম্পর্ক, তাদের যৌন জীবন, পরস্পরের প্রতি আচরন, তাদের সম্পর্কের মাঝে পরিবারের অন্যদের ভূমিকা ইত্যাদি সম্পর্কেও র্পযাপ্ত তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। অত্যন্ত সতর্কতার সাথে রোগের তীব্রতা ও রোগীর মানসিক অবস্থা নির্ণয় করতে হবে। অন্যান্য পারিপাশ্বিক বিষয় যেমন, অন্য কোন মানসিক সমস্যা, মাদক বা অন্য কোন উত্তেজক ঔষুধের ব্যাবহার, ঝুঁকির মাত্রা যেমন, রোগীর আত্মহত্যার প্রবনতা, জীবনসঙ্গী বা পরিবারের অন্যদেরকে শারিরিক বা মানসিক ভাবে নির্যাতন ইত্যাদি ও বিবেচনা করতে হবে।
চিকিৎসা
এই ধরনের রোগীকে শারিরিক, মানসিক ও সামাজিক সব উপায়েই চিকিৎসা করা প্রয়োজন।
শারীরিকঃ
  • মানসিক রোগের প্রাথমি্ক চিকিৎসা
  • মানসিক রোগের ঔষধ সেবন
  • বিষাদগ্রস্থতা থেকে মুক্তির জন্য ঔষধ সেবন
মানসিকঃ
  • আক্রান্ত ব্যাক্তি ও তার জীবনসঙ্গীর জন্য কাউন্সেলিং
  • আচরনগত চিকিৎসা
  • মন-বিশ্লেষনের মাধ্যমে চিকিৎসা
  • দৃষ্টভঙ্গী পরির্বতনের জন্য মানসিক চিকিৎসা
  • পরিবারের সমর্থন
  • জীবনসঙ্গীর সহচার্য
সামাজিকঃ
  • স্বামী-স্ত্রীকে কিছুদিনের জন্য আলাদা বসবাস করতে দেওয়া
  • শিশুদের জন্য উন্নয়নমূলক সামাজিক কাজে আংশগ্রহন বৃদ্ধি
  • মাদকাসক্ত হলে, মাদক নিরাময়ের জন্য চিকিৎসা দেওয়া