নীরব ঘাতক ওথেলো সিনড্রম
|
ডা. মোহিত কামাল
|
বিশেষজ্ঞ মনোরোগ চিকিত্সক, মনোশিক্ষাবিদ
জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট
শেরেবাংলা নগর, ঢাকা
ওথেলো সিনড্রম কী?
রাহি ও তুহিনের বিয়ে হয়েছে কয়েক বছর। এরই মধ্যে অমূলক সন্দেহ যেন চেপে ধরেছে রাহিকে। সন্দেহের বশবর্তী হয়ে প্রায়ই রেগে থাকে রাহি। কথাবার্তায় বিরক্তির ছাপ। দিন দিন তুহিনকে নিয়ে তার সন্দেহের মাত্রা বেড়েই চলেছে। অদৃশ্য আঁধার যেন হামাগুড়ি দিয়ে এগিয়ে আসছে তুহিনের জীবনে। বর্তমানে শুধু সন্দেহের কারণেই ভেঙে যাচ্ছে হাজারো সংসার। আর অযাচিত সন্দেহের এই রোগটির নাম ওথেলো সিনড্রম।
রাহি প্যাথলজিক্যাল জেলাসিতে আক্রান্ত। এর আরেক নাম ওথেলো সিনড্রম বা মনের সন্দেহ। এমন রোগে আক্রান্ত হলে দাম্পত্য সম্পর্ক ভয়াবহ পরিণতির দিকে এগিয়ে যায়। বিষময় হয়ে ওঠে পারিবারিক জীবন। রাহির সন্দেহটি ঘনীভূত বিশ্বাসে পরিণত হলেও এর পেছনে যুক্তিসঙ্গত কোনো কারণ নেই। রাহির কল্পিত সন্দেহ নিছক হলেও সেটিকে বাস্তবে পরিণত করতে উদ্যত থাকে সারাক্ষণ। তার কল্পনার বিষয়বস্তুটিকে বাস্তবে রূপ দিতে সন্দেহের কারণে অহরহ ভেঙে যাচ্ছে সাজানো সংসার।
পুরুষরা ভোগে বেশি
একটি জরিপে দেখা গেছে, ওথেলো সিনড্রম রোগে পুরুষরা মহিলাদের তুলনায় বেশি ভুগে থাকে। মহিলা ও পুরুষের আক্রান্ত হওয়ার আনুপাতিক হার ১:৩.৭৬। গবেষণায় দেখা গেছে, প্যাথলজিক্যাল জেলাসি কয়েকটি প্রাথমিক রোগের সঙ্গে সংযুক্ত থাকতে পারে। এ ধরনের রোগীদের ১৭ থেকে ৪৪ ভাগ প্যরানয়েড সিজোফ্রেনিয়া, ৩ থেকে ১৬ ভাগ ডিপ্রেসিভ ডিসঅর্ডার, ৩৮ থেকে ৫৭ ভাগ নিউরোসিস ও পারসোনালিটি ডিজঅর্ডার, ৫ থেকে ৭ ভাগ অ্যালকোহলিজম এবং ৬ থেকে ২০ ভাগের ক্ষেত্রে অর্গানিক ডিজঅর্ডার জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
প্যাথলজিক্যাল জেলাসির কারণে ভয়াবহ সহিংসতার ঘটনাও ঘটে যেতে পারে। ব্রিটেনে ব্রডমুর হাসপাতালে চিকিত্সাধীন রোগীদের ওপর পরিচলিত এক গবেষণা রিপোর্টে ড. মোয়াট দেখিয়েছেন, এদের মধ্যে ১২ ভাগ মহিলা এবং ১৫ ভাগ পুরুষ প্যাথলজিক্যাল জেলাসিতে আক্রান্ত ছিল। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, জেলাসি রোগী কর্তৃক শারীরিক জখমের মাত্রাও উল্লেখযোগ্য। এমনও দেখা গেছে, ক্রমাগত তীব্র সন্দেহের জ্বালা সইতে না পরে অনেক নিরপরাধ পার্টনার আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।
ওথেলো সিনড্রম রোগে আক্রান্ত হলে যা করবেন
ক্স ওথেলো সিনড্রম রোগে কোনো ব্যক্তি আক্রান্ত হলে কৌশলে মূল্যায়ন করতে হবে—কতটুকু অমূলক বিশ্বাস রোগী ধারণ করেন, কী পরিমাণ ক্রোধ বা রাগ রোগী বহন করছেন ইত্যাদি। রোগীর ভেতর প্রতিশোধপরায়ণ মনোবৃত্তি থাকলে বিশেষভাবে সতর্ক হতে হবে। রোগী তার সঙ্গীকে বিপর্যস্ত করে তোলেন কিনা তা যাচাই করে দেখতে হবে। এক্ষেত্রে পার্টনারকে কৌশলে এবং ধৈর্যের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে।
ক্স সাধারণত এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি মনে করেন না, তিনি রোগে আক্রান্ত। তাই তিনি ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে চান না। এক্ষেত্রে প্যাথলজিক্যাল বা ওথেলো সিনড্রম রোগের রোগীদের চিকিত্সা করা বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। কারণ রোগী মনেই করেন না যে, তার কোনো রোগ রয়েছে। ফলে চিকিত্সার যে কোনো উদ্যোগই তার কাছে অনধিকার চর্চা ও অন্যায় আচরণ বলে মনে হয়। এক্ষেত্রে যদি স্ত্রী অর্থাত্ মেয়েটি অসুস্থ হয়ে পড়েন, তাহলে মেয়ের পরিবারের পক্ষ থেকে মেয়েকে বুঝিয়ে চিকিত্সার ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি স্বামীর প্রধান কাজ হবে স্ত্রীকে এ রোগ সম্পর্কে বোঝানো। বিফল হলে ভিন্ন কৌশল প্রয়োগ করে তাকে চিকিত্সকের কাছে নিতে হবে।
ক্স যদি রোগটি প্রকৃতই অমূলক বিশ্বাসের ওপর গড়ে ওঠে, তবে অ্যান্টিসাইকোটিক ওষুধ ব্যবহার করতে হবে। যাদের আত্মবিশ্বাস কম কিংবা ব্যক্তিত্বের সমস্যা আছে, তাদের ক্ষেত্রে ডিলুশনাল ডিজঅর্ডার বা প্যাথলজিক্যাল জেলাসিটি ওভার ভেল্যুড আইডিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত কিনা তা যাচাই করে দেখতে হবে।
ক্স ওথেলো সিনড্রোম রোগীরা নিজের সন্দেহের কথাগুলো অন্যের কাছে বলে পরামর্শ চান। কিন্তু যাকে তিনি বলছেন, তার জন্য তিনি কতটুকু ইতিবাচক হবেন, তা ভাবেন না। ফলে যিনি শুনছেন, তিনি তার কথা বিশ্বাস করে ভ্রান্ত পরামর্শ দিয়ে থাকেন। আর রোগীও সেই পরামর্শ গ্রহণ করে তার পার্টনারের সঙ্গে নেতিবাচক আচরণ করে থাকেন। এক্ষেত্রে বন্ধুবান্ধব, পরিবারসহ সবাইকে গঠনমূলক পরামর্শ দিতে হবে। কারণ একটি ভুল পরামর্শই ভেঙে দিতে পারে রোগীর সাজানো সংসার।
ক্স এই রোগে আক্রান্ত পরিবারগুলোর রোগীর সন্দেহের মাত্রাটা এমন পর্যায়ে চলে যায় যে, তা প্রমাণ করার জন্য রোগী বিভিন্ন মামলা-মোকদ্দমা পর্যন্ত করে থাকেন। এতে পার্টনারের তার নানা ধরনের সমস্যা হয়। এক্ষেত্রে রোগীর পরিবারকে এগিয়ে আসতে হবে। কোনো অভিভাবক যদি বুঝতে পারেন, এটা এক ধরনের রোগ, তবে এ ধরনের সমস্যা কিছুটা হলেও লাঘব হয়। মূলত মামলাটা হয়েই থাকে ভুল বোঝাবুঝিকে কেন্দ্র করে। মা-বাবা বুঝতে পারেন না, তার সন্তান অসুস্থ। এক্ষেত্রে সামাজিক সচেতনতা বা ক্রিয়েশন অব অ্যাওয়ারনেস বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আমরা যদি একশ’ জন লোকের কাছে এই রোগের তথ্য জানাতে পারি, এর মধ্যে দু’জন লোকও যদি সামজিকভাবে সচেতন হন, তাহলে কিছুটা হলেও এ সমস্যার সমাধান হবে।
ক্স মামলা হলে আইনজীবী যদি বুঝতে পারেন, রোগী অসুস্থ বা স্বামী যদি দাবি করেন, তার স্ত্রী মানসিকভাবে অসুস্থ, তবে আইনজীবীর প্রথম কাজ হবে তার সত্যতা যাচাই করা। এক্ষেত্রে আদালতের উচিত হবে ডাক্তারের শরণাপন্ন হয়ে তার সত্যতা যাচাই করে রিপোর্ট পেশ করা। এক্ষেত্রে স্বামী যেটা করতে পারেন সেটা হলো—কেন তার স্ত্রী মানসিক রোগী, এর কারণগুলো আদালতে উপস্থাপন করা।
ক্স কারও যদি সন্তান থাকে, তার ভবিষ্যত্ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। মা-বাবা অসুস্থ হলে শিশুর বেড়ে ওঠার জন্য যে মানসিক পরিবেশ দরকার হয়, এক্ষেত্রে তার অভাব দেখা দেয়। এতে শিশুটি মানসিকভাবে আঘাত পায়। যখন সন্তান অনবরত দেখতে থাকে, তার বাবা-মায়ের মধ্যে দ্বন্দ্ব, ঝগড়া, এমনকি শারীরিকভাবে আঘাতের ঘটনাও ঘটছে, তখন বাড়ন্ত শিশুটির মানসিক উন্নতি বাধাগ্রস্ত হয়। পরিণতিতে সে ড্রাগ ও ক্রাইমে জড়িয়ে পড়তে পারে। অথবা নিজেই মানসিক রোগে আক্রান্ত হয়ে যেতে পারে। সন্তানের সুস্থ বিকাশের জন্য মননশীলতার জন্য, সামাজিক বন্ধন, মমতা, ভালোবাসা জরুরি।
ক্স যদি উভয় পক্ষ থেকে এ সমস্যায় সমাধান না হয়, তাহলে ওই দম্পতি বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। অর্থাত্ যদি তারা ভাবেন, ডিভোর্স হয়ে গেলে তারা সুখী হবেন, তবে এক্ষেত্রে সন্তানটিকে নিয়ে সমস্যা দেখা দেয়—সন্তান কার কাছে থাকবে? সাধারণত এ ধরনের পরিস্থিতিতে সন্তান থাকে অরক্ষিত অবস্থায়। এক্ষেত্রে সন্তানের কাছেই জানতে হবে, সে কার কাছে থাকতে চায়, কার কাছে সে স্বস্তি বোধ করবে। যদি দেখা যায়, সে তার মার কাছে থাকতে চায়, কিন্তু মা রোগী প্রমাণিত হয়, তবে তার কছে রাখা নিরাপদ নয়। স্বামী যদি প্রমাণ করতে পারেন, তার স্ত্রী অসুস্থ, সেক্ষেত্রে আদালতের ভূমিকা হবে তাকে সুস্থ করা, কিংবা সন্তানের অভিভাবকত্ব বাবাকে প্রদান করা। এক্ষেত্রে বাবা সুস্থ থাকলে বাবার কাছে রাখাই হবে নিরাপদ।
জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট
শেরেবাংলা নগর, ঢাকা
ওথেলো সিনড্রম কী?
রাহি ও তুহিনের বিয়ে হয়েছে কয়েক বছর। এরই মধ্যে অমূলক সন্দেহ যেন চেপে ধরেছে রাহিকে। সন্দেহের বশবর্তী হয়ে প্রায়ই রেগে থাকে রাহি। কথাবার্তায় বিরক্তির ছাপ। দিন দিন তুহিনকে নিয়ে তার সন্দেহের মাত্রা বেড়েই চলেছে। অদৃশ্য আঁধার যেন হামাগুড়ি দিয়ে এগিয়ে আসছে তুহিনের জীবনে। বর্তমানে শুধু সন্দেহের কারণেই ভেঙে যাচ্ছে হাজারো সংসার। আর অযাচিত সন্দেহের এই রোগটির নাম ওথেলো সিনড্রম।
রাহি প্যাথলজিক্যাল জেলাসিতে আক্রান্ত। এর আরেক নাম ওথেলো সিনড্রম বা মনের সন্দেহ। এমন রোগে আক্রান্ত হলে দাম্পত্য সম্পর্ক ভয়াবহ পরিণতির দিকে এগিয়ে যায়। বিষময় হয়ে ওঠে পারিবারিক জীবন। রাহির সন্দেহটি ঘনীভূত বিশ্বাসে পরিণত হলেও এর পেছনে যুক্তিসঙ্গত কোনো কারণ নেই। রাহির কল্পিত সন্দেহ নিছক হলেও সেটিকে বাস্তবে পরিণত করতে উদ্যত থাকে সারাক্ষণ। তার কল্পনার বিষয়বস্তুটিকে বাস্তবে রূপ দিতে সন্দেহের কারণে অহরহ ভেঙে যাচ্ছে সাজানো সংসার।
পুরুষরা ভোগে বেশি
একটি জরিপে দেখা গেছে, ওথেলো সিনড্রম রোগে পুরুষরা মহিলাদের তুলনায় বেশি ভুগে থাকে। মহিলা ও পুরুষের আক্রান্ত হওয়ার আনুপাতিক হার ১:৩.৭৬। গবেষণায় দেখা গেছে, প্যাথলজিক্যাল জেলাসি কয়েকটি প্রাথমিক রোগের সঙ্গে সংযুক্ত থাকতে পারে। এ ধরনের রোগীদের ১৭ থেকে ৪৪ ভাগ প্যরানয়েড সিজোফ্রেনিয়া, ৩ থেকে ১৬ ভাগ ডিপ্রেসিভ ডিসঅর্ডার, ৩৮ থেকে ৫৭ ভাগ নিউরোসিস ও পারসোনালিটি ডিজঅর্ডার, ৫ থেকে ৭ ভাগ অ্যালকোহলিজম এবং ৬ থেকে ২০ ভাগের ক্ষেত্রে অর্গানিক ডিজঅর্ডার জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
প্যাথলজিক্যাল জেলাসির কারণে ভয়াবহ সহিংসতার ঘটনাও ঘটে যেতে পারে। ব্রিটেনে ব্রডমুর হাসপাতালে চিকিত্সাধীন রোগীদের ওপর পরিচলিত এক গবেষণা রিপোর্টে ড. মোয়াট দেখিয়েছেন, এদের মধ্যে ১২ ভাগ মহিলা এবং ১৫ ভাগ পুরুষ প্যাথলজিক্যাল জেলাসিতে আক্রান্ত ছিল। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, জেলাসি রোগী কর্তৃক শারীরিক জখমের মাত্রাও উল্লেখযোগ্য। এমনও দেখা গেছে, ক্রমাগত তীব্র সন্দেহের জ্বালা সইতে না পরে অনেক নিরপরাধ পার্টনার আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।
ওথেলো সিনড্রম রোগে আক্রান্ত হলে যা করবেন
ক্স ওথেলো সিনড্রম রোগে কোনো ব্যক্তি আক্রান্ত হলে কৌশলে মূল্যায়ন করতে হবে—কতটুকু অমূলক বিশ্বাস রোগী ধারণ করেন, কী পরিমাণ ক্রোধ বা রাগ রোগী বহন করছেন ইত্যাদি। রোগীর ভেতর প্রতিশোধপরায়ণ মনোবৃত্তি থাকলে বিশেষভাবে সতর্ক হতে হবে। রোগী তার সঙ্গীকে বিপর্যস্ত করে তোলেন কিনা তা যাচাই করে দেখতে হবে। এক্ষেত্রে পার্টনারকে কৌশলে এবং ধৈর্যের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে।
ক্স সাধারণত এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি মনে করেন না, তিনি রোগে আক্রান্ত। তাই তিনি ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে চান না। এক্ষেত্রে প্যাথলজিক্যাল বা ওথেলো সিনড্রম রোগের রোগীদের চিকিত্সা করা বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। কারণ রোগী মনেই করেন না যে, তার কোনো রোগ রয়েছে। ফলে চিকিত্সার যে কোনো উদ্যোগই তার কাছে অনধিকার চর্চা ও অন্যায় আচরণ বলে মনে হয়। এক্ষেত্রে যদি স্ত্রী অর্থাত্ মেয়েটি অসুস্থ হয়ে পড়েন, তাহলে মেয়ের পরিবারের পক্ষ থেকে মেয়েকে বুঝিয়ে চিকিত্সার ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি স্বামীর প্রধান কাজ হবে স্ত্রীকে এ রোগ সম্পর্কে বোঝানো। বিফল হলে ভিন্ন কৌশল প্রয়োগ করে তাকে চিকিত্সকের কাছে নিতে হবে।
ক্স যদি রোগটি প্রকৃতই অমূলক বিশ্বাসের ওপর গড়ে ওঠে, তবে অ্যান্টিসাইকোটিক ওষুধ ব্যবহার করতে হবে। যাদের আত্মবিশ্বাস কম কিংবা ব্যক্তিত্বের সমস্যা আছে, তাদের ক্ষেত্রে ডিলুশনাল ডিজঅর্ডার বা প্যাথলজিক্যাল জেলাসিটি ওভার ভেল্যুড আইডিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত কিনা তা যাচাই করে দেখতে হবে।
ক্স ওথেলো সিনড্রোম রোগীরা নিজের সন্দেহের কথাগুলো অন্যের কাছে বলে পরামর্শ চান। কিন্তু যাকে তিনি বলছেন, তার জন্য তিনি কতটুকু ইতিবাচক হবেন, তা ভাবেন না। ফলে যিনি শুনছেন, তিনি তার কথা বিশ্বাস করে ভ্রান্ত পরামর্শ দিয়ে থাকেন। আর রোগীও সেই পরামর্শ গ্রহণ করে তার পার্টনারের সঙ্গে নেতিবাচক আচরণ করে থাকেন। এক্ষেত্রে বন্ধুবান্ধব, পরিবারসহ সবাইকে গঠনমূলক পরামর্শ দিতে হবে। কারণ একটি ভুল পরামর্শই ভেঙে দিতে পারে রোগীর সাজানো সংসার।
ক্স এই রোগে আক্রান্ত পরিবারগুলোর রোগীর সন্দেহের মাত্রাটা এমন পর্যায়ে চলে যায় যে, তা প্রমাণ করার জন্য রোগী বিভিন্ন মামলা-মোকদ্দমা পর্যন্ত করে থাকেন। এতে পার্টনারের তার নানা ধরনের সমস্যা হয়। এক্ষেত্রে রোগীর পরিবারকে এগিয়ে আসতে হবে। কোনো অভিভাবক যদি বুঝতে পারেন, এটা এক ধরনের রোগ, তবে এ ধরনের সমস্যা কিছুটা হলেও লাঘব হয়। মূলত মামলাটা হয়েই থাকে ভুল বোঝাবুঝিকে কেন্দ্র করে। মা-বাবা বুঝতে পারেন না, তার সন্তান অসুস্থ। এক্ষেত্রে সামাজিক সচেতনতা বা ক্রিয়েশন অব অ্যাওয়ারনেস বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আমরা যদি একশ’ জন লোকের কাছে এই রোগের তথ্য জানাতে পারি, এর মধ্যে দু’জন লোকও যদি সামজিকভাবে সচেতন হন, তাহলে কিছুটা হলেও এ সমস্যার সমাধান হবে।
ক্স মামলা হলে আইনজীবী যদি বুঝতে পারেন, রোগী অসুস্থ বা স্বামী যদি দাবি করেন, তার স্ত্রী মানসিকভাবে অসুস্থ, তবে আইনজীবীর প্রথম কাজ হবে তার সত্যতা যাচাই করা। এক্ষেত্রে আদালতের উচিত হবে ডাক্তারের শরণাপন্ন হয়ে তার সত্যতা যাচাই করে রিপোর্ট পেশ করা। এক্ষেত্রে স্বামী যেটা করতে পারেন সেটা হলো—কেন তার স্ত্রী মানসিক রোগী, এর কারণগুলো আদালতে উপস্থাপন করা।
ক্স কারও যদি সন্তান থাকে, তার ভবিষ্যত্ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। মা-বাবা অসুস্থ হলে শিশুর বেড়ে ওঠার জন্য যে মানসিক পরিবেশ দরকার হয়, এক্ষেত্রে তার অভাব দেখা দেয়। এতে শিশুটি মানসিকভাবে আঘাত পায়। যখন সন্তান অনবরত দেখতে থাকে, তার বাবা-মায়ের মধ্যে দ্বন্দ্ব, ঝগড়া, এমনকি শারীরিকভাবে আঘাতের ঘটনাও ঘটছে, তখন বাড়ন্ত শিশুটির মানসিক উন্নতি বাধাগ্রস্ত হয়। পরিণতিতে সে ড্রাগ ও ক্রাইমে জড়িয়ে পড়তে পারে। অথবা নিজেই মানসিক রোগে আক্রান্ত হয়ে যেতে পারে। সন্তানের সুস্থ বিকাশের জন্য মননশীলতার জন্য, সামাজিক বন্ধন, মমতা, ভালোবাসা জরুরি।
ক্স যদি উভয় পক্ষ থেকে এ সমস্যায় সমাধান না হয়, তাহলে ওই দম্পতি বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। অর্থাত্ যদি তারা ভাবেন, ডিভোর্স হয়ে গেলে তারা সুখী হবেন, তবে এক্ষেত্রে সন্তানটিকে নিয়ে সমস্যা দেখা দেয়—সন্তান কার কাছে থাকবে? সাধারণত এ ধরনের পরিস্থিতিতে সন্তান থাকে অরক্ষিত অবস্থায়। এক্ষেত্রে সন্তানের কাছেই জানতে হবে, সে কার কাছে থাকতে চায়, কার কাছে সে স্বস্তি বোধ করবে। যদি দেখা যায়, সে তার মার কাছে থাকতে চায়, কিন্তু মা রোগী প্রমাণিত হয়, তবে তার কছে রাখা নিরাপদ নয়। স্বামী যদি প্রমাণ করতে পারেন, তার স্ত্রী অসুস্থ, সেক্ষেত্রে আদালতের ভূমিকা হবে তাকে সুস্থ করা, কিংবা সন্তানের অভিভাবকত্ব বাবাকে প্রদান করা। এক্ষেত্রে বাবা সুস্থ থাকলে বাবার কাছে রাখাই হবে নিরাপদ।
No comments:
Post a Comment